Replication of Math in Human Brain

ভাইরাস। ভাইরাস ঢোকানো উচিৎ। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মাথায় শিক্ষাজীবনের শুরুতেই অংকের ভাইরাস ঢোকানো উচিৎ। ভাইরাস কিভাবে কাজ করে? কম্পিউটার ভাইরাস এর কথাই ধরা যাক। প্রথমে কম্পিউটার এর স্মৃতিতে প্রবেশ, অতঃপর ক্রমশ বংশবৃদ্ধি (replicate) করে নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি। শিক্ষার্থীদের মাথায় গনিতবিদ্যাকে এমন ভাবে ঢুকানো উচিৎ যেন অংক গুলো শিক্ষার্থীর মস্তিষ্ককে ব্যাবহার করে বংশবৃদ্ধি করে, সৃষ্টি করে নতুন নতুন অংকের- নতুন নতুন সমস্যার- নতুন নতুন সমাধানের।

কিন্তু আমাদের দেশে আদৌ কি তা হচ্ছে? আমরা অংক কিভাবে করছি? এটা সত্যিকার অর্থেই হতাশার বিষয় যে আমরা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই অংক মুখস্থ করছি। কেউ অংক লাইন বাই লাইন মুখস্ত করছি, কেউ আবার অংকের Process মুখস্ত করছি। শিক্ষক কোনো অংক করিয়ে দিলে আমরা কেউ কেউ অংকের লাইন গুলো (এমন কি মান গুলোও) মুখস্ত করে ফেলি, আবার কেউ কেউ অংকটাতে কোন কাজটার পরে কোন কাজটা করতে হবে তা মুখস্ত করে ফেলি। একটি অংকের কথা কল্পনা করা যাক যাতে প্রথমে যোগ, এর পরে ভাগ পরে আবার বিয়োগ করলে উত্তর পাওয়া যায় এবং অংকটা শেষ হয়। আমরা বেশিরভাগ শিক্ষার্থী কি করব? কেউ অংকটা উত্তর সহ লাইন বাই লাইন খেয়ে ফেলব (তবে হজম করবনা, করব বদ হজম-কারন পরিক্ষার খাতায় অংকটা আবার হুবুহু ‘বমি’ করতে হবে) আবার কেউ বা মুখস্ত করব যে প্রথমে যোগ এরপরে ভাগ এর পরে বিয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা(এমনকি তাদের অভিভাবকেরাও) নিজেদেরকে অংকে ভাল ভেবে গর্ব করে। তারা এটা দাবি করে বসে যে তারা অংক বুঝে করেন। তাদের ভাষায় অংকের Process মনে রেখে অংক করাই হল অংক বুঝে করা। এটা আরো হতাশার। তারা বোঝেই না যে তারা অংক মুখস্ত করছে। অংক নিশ্চয়ই মুখস্ত করার জন্য নয়।

তাহলে অংক কি? অংক হল বিজ্ঞান আর বাস্তব জগতের মাঝে সংযোগ সেতু। বাস্তব জগতের সমস্যা গুলো সংখ্যা আর সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করে তার সমাধান করাই হল অংক। অর্থাৎ অংকের মূল উদ্দেশ্য সমস্যার সমাধান করা। তাহলে সমস্যার কথা মাথায় রেখে তা সমাধানের সব চেয়ে সহজ পথ খুঁজে বের করে সেই পথ ধরে সমাধান করাই হল অংক করা। অংক করতে দিলে, শিক্ষক অংকটা কিভাবে করিয়েছিলেন কিংবা Last Time অংকটা কিভাবে করেছিলাম এটা মনে করার চেষ্টা করা মানে হল নিজেকে গনিতবিদ্যায় ক্রমশ পঙ্গু করে ফেলা। শিক্ষার্থীদের এটা মাথায় রাখা উচিৎ যে পরীক্ষায় ভাল মার্ক পাওয়ার জন্য অংক করা না, বরং অংকের skill পরিমাপ করার জন্য পরীক্ষা। কিন্তু আমরা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই অংক করি পরীক্ষায় ভাল মার্ক তোলার জন্য। দোষটা কার? শিক্ষাব্যাবস্থার সমালোচনা করে পুরনো কাসুন্দি আর নাইবা ঘাটলাম, শুধু এইটুকু বলব যে শৈশবকাল থেকে আমাদেরকে অংক বোঝার চেয়ে পরীক্ষায় ভাল মার্ক তোলার প্রতি বেশি আগ্রহী করে তোলা হয়েছে। যে কারনে শিক্ষার্থীদের কাছে গনিত এক ভীতি ময় Subject। অংকগুলো যেন বিষাক্ত কীট। পরীক্ষায় ভাল মার্ক তোলার জন্য অংক করার Tendency থেকে যতদিন পর্যন্ত বেরোনো না যাবে ততদিন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দিয়ে অংক করানোর ‘মূল উদ্দেশ্য’ টা সফল হবেনা। শিক্ষার্থীদের কাছে অংক গুলো বিষাক্ত কীট হয়েই থাকবে। সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্য নিয়ে অংক করলে শিক্ষার্থী অংকের আসল সাধটা অনুভব করবে। অংক করবে গনিত বিদ্যাকে ভালবেসে। আর তখনই অংক গুলো শিক্ষার্থীর মস্তিষ্কে Replicate করবে।

পরিশেষে একটি প্রশ্নের সমাধান দেয়া দরকার। অংকে কাকে ভাল বলা চলে? অংকে সেই ভাল যাকে বিভিন্ন সময় একটা অংক দশবার করতে দিলে সে নিজের অজান্তেই দশভাবে করে ফেলে। আর যে দশবারই অংকটা হুবুহু একই নিয়মে করল, সে অংকে না ইতিহাসে ভাল। কারন দ্বিতীয় জন অংকটা মুখস্ত করে ফেলেছে। অন্যদিকে প্রথম শিক্ষার্থী অংকটা মনে রাখারই চেষ্টা করেনি। বরং তার সম্পূর্ণ চেস্টা ছিল অংকের ভিতরের সমস্যাটার সমাধান করা।

মুশফিকুর রহমান শোভন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *