রোবট

রোবটিক্স একটি সৌখিন (Hobistic) বিষয়। সখের ইঞ্জিনিয়ারদের পাগলামির ফসল হল রোবটিক্স। কিন্তু এই রোবটিক্স যখন প্রফেশনাল লেভেল এ চলে যায় তখন সেটা হয়ে যায় অটোমেশন। আর আজকের পৃথিবী অটোমেশন ছাড়া কল্পনা করা অসম্ভব। তাই আজকের ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপসংহারটা অটোমেশন বা রোবটিক্স এর মধ্যেই নিহিত।

রোবট কিভাবে কাজ করে? রোবট এর চলার মৌলিক নিয়ম গুলো মানুষের মতই। মানুষ কিভাবে কাজ করে? মানুষ তাঁর পাঁচটি ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে তাঁর চার পাশের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা গ্রহন করে। ইন্দ্রিয়গুলো পরিবেশ সম্পর্কে গ্রহন করা ধারনাকে তথ্য আকারে মস্তিস্কে প্রেরণ করে। মস্তিস্ক সেই তথ্যকে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয় কি করা উচিৎ। এর পরে মস্তিস্ক সে সিদ্ধান্ত অনুসারে দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলকে পরিচালনা করে। রোবট এর কাজের পদ্ধতি অনেকটা এমনই। মানুষের যেমন ইন্দ্রিয় আছে তেমনি রোবট এর আছে বিভিন্ন সেন্সর। একই ভাবে মানুষের মস্তিস্কের পরিবর্তে রোবটের আছে প্রোসেসিং ইউনিট। রোবট সেন্সর এর মাধ্যমে বাইরের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা গ্রহন করে সেই তথ্যকে প্রোসেসিং ইউনিট এ পাঠায়।  প্রোসেসিং ইউনিট সে তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করে।

মানুষের যেমন পাঁচটি ইন্দ্রিয় পাঁচটি আলাদা অনুভুতির মাধ্যমে পরিবেশ থেকে তথ্য গ্রহন করে তেমনি রোবটও পরিবেশ থেকে আলাদা আলাদা অনুভুতি গ্রহন এর জন্য আলাদা আলাদা সেন্সর ব্যবহার করে। যেমন রোবট আলোর উপস্থিতি, তীব্রতা কে অনুভব করার জন্য ব্যবহার করে লাইট ডিপেন্ডেন্ট রেজিস্টেন্স (LDR), ফটোডায়োড কিংবা ফটোট্রানসিস্টর । ফটোডায়োড এবং ফটোট্রানসিস্টর ব্যবহার করে রোবট কোনো বস্তুর রঙকেও অনুভব করতে পারে। আবার কোন স্থান এ কোন বস্তুর উপস্থিতি, আকার আকৃতি অনুভব করার জন্য রোবট ব্যবহার করে ইনফ্রা রেড রে কিংবা এক্স রে । তবে আধুনিক রোবটিক্স এ মানুষের দৃষ্টিশক্তির বিকল্প হিসেবে ক্যামেরা এবং ইমেজ প্রোসেসিং ব্যাপক ভাবে ব্যাবহৃত হচ্ছে। মানুষ যেমন তাপ অনুভব করার জন্য ত্বক ব্যবহার করে তেমনি রোবটেরও রয়ছে আলাদা সেন্সর। শব্দ গ্রহন এর জন্য মাইক্রোফোন এর ব্যবহারতো বলাই বাহুল্য। সাধ এবং গন্ধ অনুভব করার জন্য চলছে ব্যাপক গবেষণা। Photoelectric Photometry Method ব্যবহার করে কোনো কোনো গ্যাস এর উপস্থিতি অনুভব করতে পারে রোবট।

মানুষ মস্তিস্ককে ব্যবহার করে চিন্তা করে। রোবট চিন্তার জন্য ব্যবহার করে তাঁর প্রসেসিং ইউনিটকে। এখানে থাকে মাইক্রোপ্রোসেসর আর মেমোরি। কখোনো কখোনো মাইক্রোকন্ট্রোলারও ব্যবহৃত হয় মাইক্রোপ্রোসেসর আর মেমোরি এর পরিবর্তে (মাইক্রোকন্ট্রোলার হলো মাইক্রোপ্রোসেসর ও মেমরির সমন্বয়ে এক ধরনের ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট)। মেমোরিতে রোবট এর জন্য প্রোগ্রাম থাকে। এই প্রোগ্রাম এ বলা থাকে কোন পরিস্থিতিতে রোবট কি করবে। রোবট এর সেন্সর বাইরের পরিবেশ থেকে তথ্য গ্রহন করে সে তথ্যকে ইলেক্ট্রিক্যাল সিগন্যাল এ রুপান্তর করে প্রসেসিং ইউনিটে পাঠায়। প্রসেসিং ইউনিটে মাইক্রোকন্ট্রোলার বা মাইক্রোপ্রোসেসর সে সিগন্যাল কে বিশ্লেষণ করে মেমোরির প্রোগ্রাম অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করে। কখনো বা সে কোনো মোটর কে নিয়ন্ত্রণ করে, কখনো বা অন্য কোন যন্ত্র যা দিয়ে আলো, শব্দ কিংবা তাপ উৎপন্ন হয়।

মানুষ আর রোবট এর মধ্যে কিছু পার্থক্যও রয়েছে। মানুষ এবং রোবট এর মধ্যে মুল পার্থক্যটা চিন্তা শক্তির ধরণে। মানুষ নিজের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু রোবট নিজের ইচ্ছায় কিছু করতে পারে না। রোবটের প্রোগ্রাম এর মধ্যে কোনো প্রোগ্রামারকে বলে দিতে হয় পরিস্থিতি সাপেক্ষে রোবট কি সিদ্ধান্ত নিবে। অন্য দিকে রোবট অনেক দ্রুত ক্যালকুলেশন করতে পারে যা মানুষ পারে না। তাই মানুষের সাথে প্রতিযোগিতার জন্য এ শক্তিটাই রোবট এর সব চেয়ে বড় অস্র। হয়ত কোনো একদিন আসবে যেদিন আর মানুষ কে প্রোগ্রাম করে দিতে হবে না। রোবট এর স্মৃতির প্রোগ্রাম গুলো রেপ্লিকেট করে তৈরি করবে নতুন প্রোগ্রাম। সেইদিনটা হয়ত খুব বেশি দূরে নয়।

-মোঃ মুশফিকুর রহমান শোভন

1 thought on “রোবট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *