ঈশ্বর কণা

বর্তমান সময়ের বিজ্ঞানী মহলের সব চেয়ে আলোচিতো বিষয় গুলার মধ্যে অন্যতম হল ঈশ্বর কনা(GOD particle) তথা হিগস বোসন (higgs boson) কণা । আমরা মাঝে মধ্যেই এই হিগস বা বোসন কনার কথা TV বা সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারি যে , কোন এক বিজ্ঞানী গোষ্ঠী হিগস বোসন এর সন্ধান পেয়েছেন তো অন্য কোন গোষ্টী এইটার খুব কাছে ।কিন্তু কি এই হিগস বোসন ? কেনই বা বিজ্ঞানীদের এটা নিয়ে এত মাথা ব্যথা? এবার এটা সম্পর্কে কিছু জানা যাক ।এটা বোসন কনার একটা প্রকার । যেটির নামকরন করা হয় বিখ্যাত বিজ্ঞানী Peter Higgs এর নাম অনুসারে । তবে এটা নিয়া আলোচনা করতে গেলে যে দুটি বিষয় মাথায় আসে তার একটি সার্ণ এর LHC(LARGE HADRON COLLIDER) আর একটি হল এক জন বাঙালী বিজ্ঞানী যার কথা উল্লেখ না করলে বোসন সম্পর্কে আলোচনা ব্যার্থ হয়ে যায় । তিনি হলেন সত্যেণ্দ্রনাথ বসু । যিনি ১৯২৪ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন । তিনিই কোয়ান্টাম পরিসংখ্যানের ভিত্তি রচনা করেন । তার নাম থেকেই বোসোন কণার নামকরণ করা হয়। সার্ন এর LHC সম্পর্কে আমরা কম-বেশি সকলেই জানি , এটাকে তৈরি করা হয়েছে প্রায় একশত বা এর চেয়েও বেশি দেশের এক হাজারের মত বিজ্ঞানী আর ইঞ্জিনিয়ারদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফললে। এটা হল মাটির ১৭৫ মিটার নিচুতে ২৭ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি টানেল যেটি ফ্রান্স-সুইডিস সীমান্তে অবস্থিত। পদার্থ বিজ্ঞানের বিভিন্ন সূত্র ,অনুমান এবং বিভিন্ন কনার আচারন , মহাবিশ্বের উৎপত্তি , হিগস বোসন কনার অস্তিত ইত্যাদী নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করাই এই বিশাল লাব্রেট্ররি ।এখন চলুন আবার হিগস বোসন এর দিকে নজর দেয়া যাক ।প্রমান মডেল অনুযায়ী হিগস বোসন হল এক শ্রেণীর বোসন যার কোন ঘূর্ণন , ইলেক্ট্রিক চার্জ বা বর্ণপরিবর্তন নাই । এটি পদার্থ বিজ্ঞানের অনেক সমস্যার সমাধান দেয়। এটির মাধ্যমে অনেক জটিল সমস্যা এর সমাধান দেয় । যেমন ধরুন আমরা তো সবাই পড়েছি যে ফোটন এর ভর নাই কিন্তু ভর ছাড়া আবার কনা কিভাবে ? এটার ব্যাখ্যা দিবে এই হিগস বোসন কনা । কোয়ান্টাম পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষাই যেকোনো পদার্থের মূল বিশিষ্ট এর ভর না । কোয়ান্টাম পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষাই সেসকল কণারই ভর থাকবে যাদের সাথে হিগস বোসন কনা সংযুক্ত থাকবে ।এ কারনেই একে ঈশ্বর কনা বলা হয় । সহজ ভাষাই আমরা একে ভর যুক্ত করন কনাও বলতে পারি । যে সকল কনার সাথে এটি থাকে না তারা ভর হীন হয় । যেমন ফোটন ,গ্রাভিটন ইত্যাদীর কোন ভর নাই কারন এদের সাথে কোন হিগস বোসন কনা থাকে না ।ও গ্রাভিটন এর কথা মনে আসতেই আর একটি কনার কথা মনে পরে গেল ।গ্রাভিটন কি তা হইত আমরা অনেকেই জানি না । তা একটু পরেই জানতে পারব । যখন থেকে মহাকর্ষ বা চুম্বক বল সম্পর্কে জানলাম তখন থেকই একটা প্রশ্ন মাথাই ঘুর পাক খেত যে এগুলা কি ভাবে কাজ করে ? তখন যদিও তার কোন সদুত্তর পাই নাই । প্রকৃত পক্ষে এই বল কাজ করে এক ধরনের ভর হীন কনার বিনিময় এর মাধ্যমে ।এদের সাথে কোন হিগস বোসন থাকে না । মহাকর্ষ বল যে কনার বিনিময় এর মাধ্যমে কার্যকর হয় তা হল গ্রাভিটন । এটি একটি স্পিন-২ বোসন যাহোক এগুলো অনেক বিস্তৃত বিষয় এগুলো অন্য সময় আলোচনা করা যাবে । মূল কথা হল হিগস বোসন ভর দান করে আর এ কারনেই এই কল্পিত কনা নিয়ে বিজ্ঞানী দের এত মাথা ব্যাথা । আমি যতদূর জানি বিজ্ঞানীরা হিগস বোসন এর খোজ পাননি তবে তারা ধারনা করছেন যে খুব তাড়াতাড়ি এর খোঁজ পেয়ে যাবেন । কনিকা জগত সত্যিই রহস্য ময়, যতো জানা যাই ততই জানার আগ্রহ বেড়ে যায় ।
বিঃদ্রঃ আমার সম্পূর্ণ লেখায় হয়ত কোন Concept এ আমার ভুল ছিল কারন এগুলো সবই নিতান্তই ভাললাগা থেকে, ইন্টারনেট থেকে জানা ।এসব অবশ্যই ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । ধন্যবাদ ।

-প্রদীপ্ত সাহা

1 thought on “ঈশ্বর কণা

  1. অনিক চৌধুরী Reply

    আপনার লেখাটা ভাল লাগল । আশা করি বিজ্ঞানভিত্তিক আরো লেখা পাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *